Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / গল্প / অধ্যায়ের শেষে। [একটি কষ্টের গল্প]

অধ্যায়ের শেষে। [একটি কষ্টের গল্প]

ছেলেটি বসে আছে সেই পুকুর পাড়ে, ঠিক যেখানে মেয়েটির সাথে তার প্রথম পরিচয় হয়েছিল। কত স্মৃতি বয়ে আছে এই পুকুরপাড়ে তা শুধু মাত্র ছেলেটি আর তার সৃস্টিকর্তাই জানে। আপন মনে, বুক ভরে নিকোটিন নামক সিগারেটের ধোঁয়া গুলোকে নিজের বুকের ভিতর টেনে নিচ্ছে আপন মনে। সেই সাথে তার চোখ দিয়ে অশ্রু রূপে গড়িয়ে পড়ছে এত বছরের সব জমানো স্মৃতি কথা গুলো।

হৃদয়ভাঙা আবেগে বুকটা ভেঙে হাজার টুকরা হয়ে যাবার কষ্টটা সে আজ নিজে উপলব্ধি করতে পারছে। এমনটা তার অনেক বার হয়েছে। কিন্তু আজ সমস্ত কিছুর বাঁধা পেরিয়ে গেছে। কারণ আজ তার প্রিয় মানুষটার বিয়ে। হ্যাঁ, আজ সে অন্য কারও হয়ে যাবে সারাজীবনের জন্য। অবশ্য তাদের ব্রেকআপটা আজ থেকে ২ বছর আগেই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আবেগটা আজও বিদ্যমান।

ছেলেটির নাম ইমরান। আর তার সবচেয়ে পরিচিত মানুষটার নাম ছিল লাবনী।

কোনও একটা কারণে আজ থেকে ২বছর আগে তাদের সম্পর্কটা শেষ হয়ে যায়।

তো ইমরান বসে বসে প্যাকেটের পর প্যাকেট সিগারেট খাচ্ছে। তার বন্ধুরাও আজ তাকে কিছু বলছে না। কারণ তারা জানে যে, আজ ইমরান তাদের কোনও কথাই শুনবে না। আর আজই তো শেষ দিন। তারপর থেকে তো আর লাবণীর কথা উঠবে না,,,,,,,,,

সন্ধ্যা ৬ টায় লাবণীর বিয়ে হয়ে যাবার কথা ছিল। এখন বাজে ৬:৩০। এতক্ষণে বিয়েটা হয়ে গেছে। ইমরান মনে মনে ভাবছে, কি আর হবে?? যার অন্যের হয়ে যাবার কথা সে তো অন্যের হয়েই গেছে শেষপর্যন্ত। চুপ চাপ সিগারেট টানছে আর কষ্ট গুলোকে বাষ্পে পরিণত করে দিচ্ছে। তারপর ও তার কষ্ট কমছে না। তার বন্ধুরা বার বার তাকে অনেক ভাবে বোঝাচ্ছে কিন্তু কোনও রকম কোনও কাজ হচ্ছে না। নিরবে ইমরান কেঁদেই যাচ্ছে।

সন্ধ্যা ৭ টা, এমন সময় ইমরান পেছেন থেকে একটা ডাক শুনতে পেলো,,,,,,,, সেই পরিচিত গলার ডাক। যেটা সে সারাটি জীবন শুনতে চেয়েছিল।

“ইমরান”?

পেছন ফিরে ইমরান তাকালো। সে আশা করে নি এমন সময় লাবনী আসবে। ইমরান উঠে দাঁড়ালো। দেখতে পেল যে লাবণী আর তার মেজ বোন (মীম আপু) দাঁড়িয়ে আছে। অসম্ভব সুন্দর লাগছে লাবনী কে বিয়ের সাঝে। ইমরান চুপ চাপ তাকিয়ে আছে, বলার কোনও ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। বুক ফেঁটে কান্না আসতে লাগলো। কিন্তু কাঁদলো না। জ্বলন্ত সিগারেটে কয়েকটা টান দিয়ে,অন্য দিকে ফিরে তাকিয়ে আছে ইমরান।লাবণী দেখতে পেল অনেক শুখিয়ে গেছে তার ইমরান। এমনটা হয়ে যাবে, আগে কখনো ভাবতে পারে নি।

লাবণী : এমন অবস্থা করেছো কেনও নিজের?

ইমরান: খেয়াল রাখার মানুষটা অনেক আগেই হারিয়ে গেছে তো এই জন্য।

লাবণী : ও। সিগারেট খাওয়া শুরু করলে কবে থেকে?

ইমরান: যেদিন থেকে আমাকে আগলে রাখবার মানুষটি হারিয়ে গেছে ঠিক সেদিন থেকে।

লাবণী : আচ্ছা, সে যদি আবার ফিরে আসে তখন কি ছাড়বে এইসব?

ইমরান: ( চিৎকার করে বলতে চেয়েছিল, হ্যাঁ আমি সব কিছুই ছেড়ে দিব কিন্তু পারলো না । সোজা ভাবে উওর দিল) না। আমি কখনো আর পাল্টাবো না।

লাবনী : কেন?

ইমরান: সব প্রশ্নের উওর থাকে না। আর তাছাড়া, এখন তো আর সে আমার না। আমার কোনও অধিকার ও নেই তার উপর।

লাবণী: আমি যদি এখন সেই অধিকারটা দিই তখন? আমাকে নিয়ে এখন দূরে কোথাও চলে যেতে পারবে?

ইমরান: না । সেই অধিকারটা এখন আর আমার নেই। তুমি তো এখন অন্যের বউ। (হাসি মুখে) দেখো, আমার জীবনের কোনও গ্যারান্টি নেই। হাজার হলেও তো আমি ক্যান্সার এর রোগী।

আমি চাব না তোমার জীবনটাও আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে শেষ করে দিতে।

লাবণী কান্না জড়িত ভাবে ইমরান কে এবার জড়িয়ে ধরলো। কিন্তু ইমরান তো জানে, যে সে এখন অন্য কারও। তারপর ও লাবণী কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে দিল। দু’জন কাঁদছে, তো কাঁদছে। এই কান্নার কোনও নাম নেই,কোনও শেষ নেই।

তারপর,,,,,,,,

আরও অনেক কথা বলার পর শেষ বারের মতো দু’জন, দু’জন কে অনেক আদেশ উপদেশ দিল। হাজার হলেও তাদের শেষ দেখা এটি। দু’জন ই জানে আর কোনও দিনও তাদের দেখা হবে না।

আজ পৃথিবীর এত মায়া, এত মমতা ভূলে দু’জন অন্ধকার কবরে।

সে দিন লাবণী তার শ্বশুর বাড়ি গিয়ে আত্মহত্যা করলো। আর ইমরান?

ও আর সেদিন বাসাই ফিরে যায়নি। ট্রেনের তলে মাথা দিয়ে এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছিল…

 

🔜 এটি শুধু একটা গল্পই মাত্র,,,,,,,,

✔বাস্তবতা অনেক কঠিন ।

Comments

About Admin Md. Lokman Hossen

আমার এ প্রেম নয় তো ভীরু, নয় তো হীনবল - শুধু কি এ ব্যাকুল হয়ে ফেলবে অশ্রুজল। মন্দমধুর সুখে শোভায় প্রেম কে কেন ঘুমে ডোবায়। তোমার সাথে জাগতে সে চায় আনন্দে পাগল।

Check Also

wife-love

দুস্ট বৌউ এর মিস্টি ভালবাসা [Best romantic story 2019]

সোনা বৌউ   স্বামীঃ-    এই  সোনা শুনছ? স্ত্রীঃ-  না শুনছি না। স্বামীঃ- তাহলে কথা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *