Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / ভালবাসার গল্প / অব্যাক্ত ভালবাসা । পার্ট-১ [Best love story-2019]

অব্যাক্ত ভালবাসা । পার্ট-১ [Best love story-2019]

বাড়িতে সবার চেঁচামেচি আর হৈ হুল্লোরে ঘুম ভেঙে গেলো স্নিগ্ধর। বাড়িতে এখন অনেক মানুষ, অনেক কোলাহল। জীবনে এই প্রথম এতো কোলাহলে ঘুম ভাঙা সত্ত্বেও রাগ হলো না তার। বরং ঘুম থেকে উঠেইতার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। কারন কাল তার বিয়ে! বিয়ের কথা ভেবে অন্য সবার সামনে হাসতে তার লজ্জা লাগে তাই নিজেই আড়ালে হেসে নেয়! এতো সব আয়োজন তাকে আর ঊষাকে ঘিরে।
এখন ঊষা কি করছে? ওর ঘুম ভেঙেছে তো নাকি প্রতিদিনের অভ্যাস মতো এখনো ঘুমাচ্ছে? মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন করে ঊষাকে,,,,,,,,,,,,,,
ঘুম ঘুম কন্ঠে ঊষা বললো,

-হ্যালো,,,,,,,,,,,

-এখনো ঘুমাচ্ছো সোনামণি ?

-হুমম। কখন উঠেছো ?

-এইতো এখন। কি কি হচ্ছে তোমাদের বাসায় ?

-গায়ে হলুদের আয়োজন !

ঊষার কথা শুনেই হেসে ফেললো স্নিগ্ধ। ঊষা বললো,

-কি হলো ? হাসছো কেনো ?

-সময় কতো তাড়াতাড়ি পার হয়ে গেলো, তাই না ? এই দিনটার জন্য ১০ বছর আমরা অপেক্ষা করেছি।
এরপর দুজনেই নীরব হয়ে গেলো। মুখে তাদের মিষ্টি হাসি। নীরবতা ভেঙে ঊষা তার চিরায়ত স্বভাব অনুযায়ী বললো,

-এই! আমি ঘুমাবো !  শুধু শুধু আমার ঘুম নষ্ট করলা!

-ঘুমাও ঘুমাও ! কাল রাতে তো আর ঘুমাইতে দিবো না!

-এইইই ! খুব দুষ্টু হয়ছো !
এই বলে নিজেই ফোন রেখে দিলো ঊষা।

দুজনের মনেই এখন একই ভাবনা। কাল এতগুলো বছর পর তারা এক হয়ে যাবে। আজ থেকে ঠিক দশ বছর আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল। প্রথমে বন্ধুত্ব তারপর প্রেম। তবে সবার মত তারা তাদের সম্পর্কটাকে bf-gf বলতো না। তারা প্রিয় বন্ধুর মত একে অপরের পাশে থেকেছে। ভালবাসার মাঝেও তাদের সম্পর্কের একটা সীমারেখা থেকেছে। ঊষা কখনও স্নিগ্ধকে তার হাত ধরতে দেয়নি। স্নিগ্ধও এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন থেকেছে। একে অপরকে বিশ্বাস করে সুখ দুঃখের সাথী হয়ে তারা এ দশটি বছর কাটিয়ে দিয়েছে।

তবে সবার মত তাদের ভালবাসায়ও অনেক বাধা এসেছে। সত্যিকারের ভালবাসা কখনও অপ্রকাশিত থাকে না তাই একটা সময় তাদের পরিবার এ ব্যাপারে জেনে যায়। তখন তাদের মাঝে কত্ত উৎকণ্ঠা, কত্ত ভয়…প্রথমে অনেক ঝামেলা হওয়ার পর একটা পর্যায়ে দুই পরিবার তাদের সম্মতি জানায়। স্নিগ্ধ আর ঊষা তাদের পরিবারের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। পরিবার না মানলে হয়ত তাদের এক হওয়া অসম্ভব ছিল। পালিয়ে বিয়ে করার কথা তারা কখনো চিন্তাও করে নি।

আয়জনের ব্যস্ততায় দিন ফুরিয়ে আসছে। বিকালের সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছে। স্নিগ্ধ আর ঊষার অপেক্ষাও যেন শেষ হচ্ছে। কাল সকালে তারা নতুন পরিচয় লাভ করবে। গায়ে হলুদে অনেক আনন্দ হলো। স্নিগ্ধর খুব ইচ্ছা করছিল তার প্রেয়সীকে কাঁচা হলুদের সাজে দেখতে। তবে তাতো সম্ভব নয়। মনে মনে সে ঊষার মিষ্টি মুখটি কল্পনা করে নিল। এভাবেই একসময় রাত নেমে এল। আকাশে এখন অনেক তারা, চাঁদের আলোয় আলোকিত।
প্রতিদিনের অভ্যাসমত ঘুমানোর আগে ঊষাকে ফোন করে স্নিগ্ধ।

-এই যে, হলুদ রাজকন্যা,,,,,, কেমন আছো ?

এক গাল হেসে ঊষা বলে-তুমি যেমন আছ !

-কাল হাত ধরতে দিবা তো ? নাকি কালকেও মানা?

-শুধু দুষ্টুমি,তাই না ??????
হাসতে হাসতে আবেগের সাগরে ভেসে যায় তারা। স্নিগ্ধ বলে,

-জানো… তোমাকে খুব কাছে পেতে ইচ্ছা করে, ভালবাসার রঙে রাঙিয়ে দিতে ইচ্ছা করে।
লাজুক মুখে ঊষা কিছুই বলতে পারে না। তখনি স্নিগ্ধ বলল,

-বুঝি বুঝি! তোমার মনের অব্যক্ত ভালবাসা মুখে প্রকাশ না করলেও আমি বুঝতে পারি সোনা।
এভাবেই তাদের মিষ্টি কথা চলতে থাকে। কাল বিয়ে তাই বেশি রাত না জেগে তারা ঘুমিয়ে পরে।
অবশেষে সেই আকাঙ্খিত দিনটি চলে আসল। ঊষাকে আজ পরীর মত সুন্দর লাগছে আর স্নিগ্ধ যেন রাজপুত্র হয়ে ঊষাকে নিতে এসেছে। সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী নানা আয়জনের পর তারা একে অপরের হওয়ার স্বীকৃতি লাভ করল।
সারাদিনের অনুষ্ঠানের পর এখন সেই মধুর রাত ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

শীঘ্রই এই গল্পপের ২য় পার্ট পোস্ট করা হবে ইনশাল্লাহ-

About Admin Md. Lokman Hossen

আমার এ প্রেম নয় তো ভীরু, নয় তো হীনবল - শুধু কি এ ব্যাকুল হয়ে ফেলবে অশ্রুজল। মন্দমধুর সুখে শোভায় প্রেম কে কেন ঘুমে ডোবায়। তোমার সাথে জাগতে সে চায় আনন্দে পাগল।

Check Also

অধ্যায়ের শেষে। [একটি কষ্টের গল্প]

ছেলেটি বসে আছে সেই পুকুর পাড়ে, ঠিক যেখানে মেয়েটির সাথে তার প্রথম পরিচয় হয়েছিল। কত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *