অভিমান

💘 আমাকে ব্লক করছো কেন? (অভিমানি কন্ঠ মীম )।

লোকমান :- তুমিই তো দিতে বলেছো।

মীম :- সেটাতো কষ্ট পেয়ে, রাগ করে বলেছি।

লোকমান :- ও ও।

মীম :- ঐ তুমি কি মানুষ না অন্য কিছু?

লোকমান :- সেটা আল্লাহ ভালো জানে। তাকে জিজ্ঞাসা করো।

মীম :- তাই না। তুমি কি কখনোই আমাকে বুঝবে না?

লোকমান :- কি বুঝব?

মীম:- আমার খুব কষ্ট হয়।

লোকমান :- কেন? কি হয়েছে?

মীম:- ভালবাসি।

লোকমান :- কাকে?

মীম:- তোমাকে।

লোকমান :- হুম। এর পূর্বেও বেশ অনেকবার কথাটা শুনেছি।

মীম:- কুত্তা, সত্যি আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। কথটা বলতে বলতে মীমের কন্ঠটা ভারি হয়ে আসছে।

ফোনের ওপারে মেয়েটার চোখে হয়ত জল ছল ছল করছে। আর বুকের মাঝে অব্যাক্ত কিছু যন্ত্রনা। ও এ সবই বুঝতে পারে। তবুও কিছু না বুঝার বান করতে ওর ভালো লাগে।

প্রায় এক বছর মীম আর আমার রিলেশন। ক্লাসমেট ছিল ও আমার আমাদের রিলেশন শুরু হয় আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন থেকে সেই অনুষ্ঠানে ক্যামেরা ম্যান এর দায়িত্বে ছিলাম আমি। পিক নেওয়ার সময় প্রায় প্রতিটা পিকেই মীমের চলে আসছিল। যেদিকে ক্যামেরা ঘুরিয়ে একটা পিক নেই সেখানেই ও ।

আমি রাগ হয়ে বললাম :-
এই আপনি এখান থেকে যান তো। মীম কে উদ্দেশ্য করে একটু ঝাঁঝিয়ে উঠি আমি।

মীম :- কেন? আমি যাব কেন? হুহ!

যেখানেই ফটো নিচ্ছি, সেখানেই ঘুরে ফিরে আপনার পিক চলে আসছে।

মীম:- ঘুরে ফিরে আমি আসছি না। বলেন যে, ইচ্ছে করেই ঘুরে ফিরে আমার পিক নিচ্ছেন। সব ছেলেরাই এক রকম।

আমি :- এই, উল্টা পাল্টা কথা বলবে না বলছি।

মীম:- উল্টা পাল্টার কি দেখলেন। যা সত্যি তাই বলছি। মেয়ে দেখলে আর মাথা ঠিক থাকেনা। তাই না! মীমের কথা শোনে মাথাটা একদম গরম হয়ে গেল। ক্যামেরাটা ছুড়ে ফেললাম মাটিতে। তারপর হন হন করে বেড়িয়ে চলে আসি অনুষ্ঠান থেকে ।

শোনেছি পরে নাকি এই ঘটনার জন্য অনেক কথা শুনতে হয়েছে মীম কে। কারন সবাই জানতো আমি কেমন ছেলে। মীম ও নাকি খুব কান্না করেছে। আর এই ঘটনাতেই মীমের সাথে আমার প্রাথমিক পরিচয়। এর প্রায় অনেক দিন পর ফেসবুকে আমাকে একটা মেয়ে নক করে বলে তার রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করতে। আমিও কিছু না ভেবে রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করি। ফেসবুকে মাঝে মাঝে গল্প লিখতাম। আর আমার প্রতিটি পোষ্টেই মীম সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করতো। আমি রিপ্লাই দিতাম। মাঝে মাঝে কমেন্টে দুষ্টামিও হত। এর পর থেকে মীম মাঝে মাঝে আমাকে নক করতো। আমিও রিপলে দিতাম। ধীরে ধীরে চ্যাট এর সময়সীমা ও গতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। একদিন মীম হঠাৎ আমার ফোন নাম্বার চায়। আমি প্রথমে দিতে ইতস্তত বোধ করলেওপরে কিযেন ভেবে দিয়ে দেই। কারন ইতি মধ্যেই ও আমার বেশ ভাল বন্ধু হয়ে গিয়েছে। ওর সাথে বন্ধুত্বের অন্যতম কারন ছিল, ও আমাকে খুব গুরুত্ব দিত। কখনো সামান্যতমও অবহেলা করতো না। কিন্তু আমি জানতাম না, আমাকে এতটা গুরুত্ব দেয়ার কারন হচ্ছে আমার প্রতি ওর দুর্বলতা। সময়ের সাথে বিষয় টা আমার কাছে পরিস্কার হয়ে যায়। সব কিছু বুঝার পরও ওকে সরাসরি কিছু বলতেও পারছি না। আবার ভয়ও লাগছে, যদি ও আমাকে ভালবেসে ফেলে!

সেই ভয়টাই এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আজ থেকে প্রায় দুই মাস পূর্বে আমাকে ডিরেক্ট প্রপোজ করে মীম । আমি ওকে বুঝাতে চেষ্টা করি। কিন্তু ও নাছড় বান্দা। কোনো ভাবেই আমার পিছু ছাঁড়ছে না। আমি ওর সাথে ফ্রেন্ডলি চ্যাট করতাম। ও তাই করতো। তবে প্রতিদিন রাতে ঘুমাবার সময় শুধু একবার করে I love u বলতো। ওর এই মেসেজটার রিপলে আমি দিতে পারতাম না। তবে ওর জন্য একটু কষ্ট লাগতো। আর মজার বিষয় ছিল, তখনো আমি জানতাম না এই মীমই অনুষ্ঠানের সেই মেয়েটা। আর কখনো ওর পিকও দেখিনি।

গতকাল রাতে ও আমাকে কিছু পিক দিয়ে বলে, দেখ তো চিনতে পারো কি না? পিক দেখেতো আমি অবাক। কারণ এই পিক গুলি আমার তুলা। ঐ অনুষ্ঠানের।

আমি :-হ্যাঁ চিনবো না কেন? এগুলাত আমার তুলা পিক। আর পিকে ঐ লাল জামা পড়া ডাইনিটার জন্যই আমার প্রিয় ক্যামেরা টা হারিয়েছি। কিন্তু তুমি এসব পেলে কোথায়?

মীম :- কুত্তা, এই ডাইনিটাই আমি।

আমি :- কি! তারপর ওর সাথে কিছুক্ষন ঝগড়া হয়। কারণ ওর জন্য আমার প্রিয় ক্যামেরাটা হারিয়েছি।তাই তখন ওর উপর যত রাগ ছিলো সব জেরেছি। ওকে অনেক কটু কথাও বলি আমি। তখন ও রাগ করে বলে যে, ওকে ব্লক দিয়ে দিতে। আমিও দিয়ে দেই।

অনেক্ষণ থেকে কান্না করতে থাকে মীম। আর ভাবনার জগৎ এ হারিয়ে গিয়েছিলাম আমি।
আমি (লোকমান) :- এই, কাঁন্না করছো কেন?

মীম :- এমনি। ফোন রাখছি। ভাল থেকো।

আমি:- এই, ওয়েট।

মীম :- কি?

আমি :- ভালবাসা লাগবে?

মীম :- কিসের ভালবাসা? কার ভালবাসা? ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য আমি নই। কথা গুলি বলতে বলতে মীমের কান্না ভেজা কন্ঠে ভেসে উঠে অভিমান।

আমি :- আরে বল না, লাগবেকি না?

মীম :- জানিনা। এবার অভিমান এর পাল্লাটা আর একটু ভারি হয়ে আসে।

আমি :- আমার না খুব ভালবাসতে ইচ্ছে করছে গো।

মীম :- কাকে?

আমি :- তোমাকে।

মীম :- তো আমি কি করব?

আমি :- তোমাকে কি একটু ভালবাসার সুযোগটা দিবে?

মীম :- না করল কে? কথাটা বলতে গিয়ে মীমের ঠোটের কোনায় এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো ।

আমি :- Love U..

মীম :- শয়তান, কুত্তা। আমারে এতদিন কষ্ট দিলি ক্যান? আবার অভিমান

আমি :- খারাপ ছেলে যে, তাই। এটা কিন্তু তোমার কথা

মীম :- চুপ শয়তান। আমারে কখনো ছাইড়া গেলে মাইরা ফালামু।

আমি :- হিহিহি। অতঃপর মীমের মুখেও ফুঁটে উঠে একটা মিষ্টি হাসি।

About Admin Md. Lokman Hossen

আমার এ প্রেম নয় তো ভীরু, নয় তো হীনবল - শুধু কি এ ব্যাকুল হয়ে ফেলবে অশ্রুজল। মন্দমধুর সুখে শোভায় প্রেম কে কেন ঘুমে ডোবায়। তোমার সাথে জাগতে সে চায় আনন্দে পাগল।

Check Also

valobasar-porinoti

তোর ভালবাসার ফাঁদে……।। প্রেম মানেই কি সব কিছু করা??????

<<<<এই গল্পটি আজকালের ভালবাসার শেষ পরিনতি নিয়ে করা>>>>> মিতু দশম শ্রেণীতে পরে। অনেক মেধাবী ছাত্রী। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *