Home / গল্প / ক্ষত হৃদয়

ক্ষত হৃদয়

ক্ষত হৃদয়

লেখক: নীল সুখ

বর্তমান সময়ে প্রেমের চেয়ে সস্তা আর কিছু নয় কারো সাথে দুইদিন ভাল করে কথা বললেই প্রেম প্রেম ভাব শুরু হয়ে যায়..
এরপর একে-অপরকে হাজার হাজার কসম দেয়া হয়
একজন কল্পনার জগতে সারাজীবনের সকল আশা আঁকতে থাকে।
আরেকজন কীভাবে নিজের স্বার্থ হাসিল করে পলায়ন করবে সেই চিন্তায় থাকে। আমি কিন্তু সত্যিকারের ভালবাসার কথা বলছি না।
তবে বর্তমান সময়ে ৯০ শতাংশ প্রেম-ই আসলে নাটক থাকে
হয়তো ছেলেরা করে অথবা মেয়েরা তবে যে কেউ একজন করে
কেউ ভুলবশত অথবা কেউ ইচ্ছাতেই

চলুন মূল ঘটনায় চলে যাই

ফেসবুক একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেখানে অচেনা অজানা মানুষের সাথে কথা হয়
অল্প কথাতেই কেউ মনের ঘরে জায়গা করে নেয় অথবা কেউ দূরে সরে যায়
হ্যাঁ ঠিক এমন একটি ঘটনা

নাঈম নামের ছেলে প্রতিনিয়ত ও আমাকে ম্যাসেজ করে যেত আমি রিপ্লাই দিতাম না বিরক্ত বোধ করতাম অচেনা কারো সাথে কথা বলতে খুবই বিরক্ত লাগতো
কিন্তু সে এত বিরক্ত করতো যে কোন এক সময় তার বিরক্তির সায় দিলাম
তার সাথে কথা বললাম,

তার সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে তার প্রতি আমার একটা ভালো লাগা কাজ করে
অনলাইনে আসলেই আগে তাকে খুজতাম সে অ্যাক্টিভ আছে কিনা
যদি একটিভ না থাকতো তাহলে পাগল হয়ে যেতাম সে কেন একটিভ হচ্ছে না
কোন এক সময় আমি তার প্রতি খুবই দুর্বল হয়ে যাই এবং একটা সময় আমরা একটা রিলেশনশিপে জড়িয়ে যাই
কিভাবে কখন সেটা নিজেও জানিনা
খুব সুন্দর ভাবে চলছিল আমাদের রিলেশনশিপ প্রত্যেকটা সকালে তার ফোনে আমার ঘুম ভাঙতো
আমাকে খুব কেয়ার করতো
আমার যত্ন নিত
আমার খেয়াল রাখত
তার ছোটখাটো কিছু কাজ আমাকে মুগ্ধ করেছিল যেমনঃ-
নাঈম: আচ্ছা আমার মহারানী কি ঘুম থেকে উঠেছে আমি কি তার জন্য কফি নিয়ে আসব

মিম: না মহারাজ আপনার মহারানী এখনো ওঠেনি তার উঠতে মন চাচ্ছে না

নাঈম: আচ্ছা তাই কিন্তু বেলা যে অনেক হলো এত কষ্ট করে কফি বানালাম কফিটা অন্তত খাও😘

মিম: মহারাজ আমার জন্য কফি বানিয়েছে এখন না উঠে আমি পারি ,
সকাল গুলো এভাবে শুরু হয় তার মিষ্টি দুষ্টুমি আর অফুরন্ত ভালোবাসা দিয়ে
এভাবে যাওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা দেখা করব

নাঈম: আচ্ছা অনেকদিন তো হলো এখন কি আমার মহারানী কে জলজ্যান্ত লাল টকটকে গোলাপের মত আমার সামনে দেখতে পাবো না?

মিম:( মনে মনে আমি খুশিতে আত্মহারা) এত তাড়াতাড়ি দেখা করব?

নাঈম: মহারানী কে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে
তার সাথে হাত ধরে হাঁটতে ইচ্ছে করছে
তার সাথে আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে
তার সাথে ফুচকা খেতে ইচ্ছে করছে
এগুলো কি শুধু আমার ইচ্ছেই রয়ে যাবে?
পাগল টার কাছে এসব শুনে আমি আর না করতে পারিনি😍

আমার এখনো মনে আছে ফেব্রুয়ারি মাসের 28 তারিখে তার সাথে প্রথম দেখা করি
সেদিনটা কখনোই ভুলতে পারব না সেই দিনটা ছিল আমার জীবনের স্মরণীয় একটি দিন ভালোবাসায় ঘেরা ছিল আমার জীবনে সেই দিনটি

বাসায় ফিরে চারদিকে শুধু তাকেই দেখতাম
যেদিকে তাকাই শুধু নাঈম আর নাঈম
মনটা কেমন ছটফট ছটফট করত সব সময়
শুধু তার জন্যেই
সেই ছটফটানি মুহূর্তেই মুঠোফোনটি বেজে উঠলো

মিম: জানো তোমার জন্য বুকের ভেতরটা কেমন ছটফট করতেছে

নাঈম: আমার জন্য করবে না তো কার জন্য করবে শুনি
আচ্ছা তুমি কি খেয়াল করেছিলে তখন একটা ছোট্ট গুলুগুলু বাচ্চা আমাদের দিকে কিভাবে তাকিয়ে ছিল
মিম: হ্যাঁ দেখেছিলাম অনেক কিউট বাচ্চা😘

নাঈম: আমাদেরও একদিন ঐরকম কিউট বাচ্চা হবে

মিম: যাহ লজ্জা করে না বুঝি

নাঈম : তুমি হবে পচা মা আর আমি হব কিউট বাবা

মিম: আমি পচা😡 তুমি পচা 😡আর শোনো পচা মায়ের কিউট বেবি হয় না

কিউট মায়ের কিউট বেবি হয়😎🤧

নাঈম :মহারানী কি রেগে যাচ্ছ নাকি😍

মিম: আচ্ছা আমাদের কয়টা বেবি হবে

নাঈম: তুমি চাইলে একটা ক্রিকেট টিম বানাবো🙈

মিম: যাহ দুষ্টু🙊🙊🙊 আমাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে হবে

নাঈম: মাত্র দুইটা😒

মিম: হ্যাঁ আর এটাই আমাদের সুখী পরিবার

নাঈম: চলো বেবি বানিয়ে ফেলি

মিম: এই ফাজিল দুষ্টমি বন্ধ করবা

নাঈম: আচ্ছা দুটো বেবি কি তোমার?

একটা আমাকে দেবে না

মিম: হ্যাঁ দেবো বলো কোনটা নেবে ছেলে না মেয়ে

নাঈম: আমি মেয়ে নেব

মিম: না তোমাকে ছেলে দিলাম

আর শোনো তোমার ছেলের নাম তুমি রাখো

নাঈম: না আমি মেয়ের নাম রাখব😑

মিম: এই যে মহারানীর কথা শুনছো না যে

নাঈম: আচ্ছা আমার ছেলের নাম তামিম

ক্রিকেট টিমের একজন হা হা হা হা

মিম: আমি তো বলছি ক্রিকেট টিম বানাবো না আমাদের সন্তান হবে দুটো😡

নাঈম: আচ্ছা বাবা রেগে যাচ্ছ কেন

তোমার মেয়ের নাম কি রাখলে?

মিম: নাবিহা😍

নাঈম: নাবিহার আম্মু একটু আদর করো না😘

মিম: তামিমের আব্বু অনেক রাত হয়েছে লক্ষ্মী ছেলের মতো ঘুমিয়ে পরো

গুড নাইট😘😘😘😘😘😘

এভাবেই চলছিল আমাদের পথ চলা
দুজন দুজনকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখা কখনো রাগ কখনো অভিমান আবার কখনো ভালবাসায় ভরে যেত আমাদের প্রতিটা মুহূর্ত কিন্তু কেউ কখনো কাউকে ছেড়ে থাকতাম না
কিন্তু জানিনা হঠাৎ করে তার কি এমন হলো…..

রাত 11.02 আমি আমার বান্ধবীর সাথে কথা বলতেছিলাম ঠিক তখন নাঈম ফোন করে এবং ওয়েটিং পাই
আমার বিশ্বাস ছিল এই ওয়েটিং এর জন্য নাঈম আমাকে কিছুই বলবেনা কারণ সে আমাকে বিশ্বাস করে অনেক ভালোবাসে
কথা শেষে তাকে আমি ফোন দিলাম

মিম: হ্যালো তামিমের আব্বু এতক্ষণে আমার কথা মনে পড়লো

নাঈম: এই তোর ফোন ওয়েটিং কেন কার সাথে কথা বললে এতক্ষন

মিম: আমার বান্ধবীর সাথে কথা বলতেছিলাম 😥

নাঈম :তুই আমাকে আর কখনো ফোন দিবি না আমি তোকে চিনি না

বলেই সে ফোনটা কেটে দেয় আমি তাকে বারবার ফোন দিলাম সে ধরল না
রাত 11 টা থেকে শুরু করে 12 টা পর্যন্ত কল দিলাম ধরল না শেষ পর্যন্ত রাত 1 টার দিকে ফোন ধরে

নাঈম: তুই বারে বারে কেন ফোন দিচ্ছিস তোর ফোন আমার কাছে বিরক্ত লাগে আমাকে কখনোই ফোন দিবি না
আমি আমার জীবন সাজিয়ে নিয়েছি তুই তোর জীবন সাজিয়ে নিস আমাকে আর কখনো ফোন দিবিনা

হঠাৎ করে সারা পৃথিবী টা আমার কাছে উলটপালট হয়ে গেল পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল
যাকে নিয়ে এত স্বপ্ন দেখলাম

আর সেই কিনা এক নিমিষেই সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে চলে গেল
এত অল্প সময়ে কি হয়ে গেল

কি দোষ ছিল আমার
কি এমন করেছিলাম যার জন্য এত বড় শাস্তি আমাকে দিচ্ছ
আমি যে তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারবো না তুমি কি সেটা জানো না
তোমাকে ছাড়া থাকবো এ কথা ভাবতে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে
যে হৃদয় শুধু ভালোবাসা ছিল সে হৃদয় আজ রক্তে পরিপূর্ণ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে এত কষ্ট আমাকে দিও না আমি সহ্য করতে পারবো না

ভুলে যেওনা আমাকে
ভুলতে পারবো না তোমাকে
আমি আজও আছি তোমারি অপেক্ষায়
তোমারি আশায়
প্লিজ কাম ব্যাক
প্লিজ কাম ব্যাক মাই লাইফ
আই এম ওয়েটিং ফর ইউ
আই এম ওয়েটিং ফর ইউ লাভ
আই এম ওয়েটিং ফর হোল্ড ইওর হ্যান্ড😭😭😭😭😭

About Admin Md. Lokman Hossen

আমার এ প্রেম নয় তো ভীরু, নয় তো হীনবল - শুধু কি এ ব্যাকুল হয়ে ফেলবে অশ্রুজল। মন্দমধুর সুখে শোভায় প্রেম কে কেন ঘুমে ডোবায়। তোমার সাথে জাগতে সে চায় আনন্দে পাগল।

Check Also

valobasar-porinoti

তোর ভালবাসার ফাঁদে……।। প্রেম মানেই কি সব কিছু করা??????

<<<<এই গল্পটি আজকালের ভালবাসার শেষ পরিনতি নিয়ে করা>>>>> মিতু দশম শ্রেণীতে পরে। অনেক মেধাবী ছাত্রী। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *