Home / ইসলামিক / সদাচরণ। উত্তম চরিত্র

সদাচরণ। উত্তম চরিত্র

“প্রতিবেশীদের সাথে সদ্ব্যবহারের প্রতি জোর তাকীদ দিয়ে মহান আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন,

وَاعْبُدُوا اللهَ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللهَ لاَ يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالاً فَخُورًا

‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তার সঙ্গে কাউকে শরীক করো না এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদাচরণ কর। আর সদাচরণ কর নিকটাত্মীয়, অনাথ, নিঃস্ব, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, পার্শ্বস্থিত সঙ্গী, পথিক ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাদের ভালবাসেন না যারা গর্বে স্ফীত অহংকারী’ (নিসা ৩৬)।

***আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم قال: إن الله تعالى رفيق يحب الرفق ويعطي على الرفق ما لا يعطي على العنف وما لا يعطي على ما سواه. وفي رواية له: قال لعائشة: عليك بالرفق وإياك والعنف والفحش إن الرفق لا يكون في شيء إلا زانه ولا ينزع من شيء إلا شانه.

আল্লাহ কোমল, তিনি কোমলতাকে ভালবাসেন। আর তিনি কোমলতার প্রতি যত অনুগ্রহ করেন, কঠোরতা এবং অন্য কোন আচরণের প্রতি তত অনুগ্রহ করেন না’।

মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে, একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশা (রাঃ)-কে বলেন,

কোমলতা নিজের জন্য বাধ্যতামূলক করে নাও এবং কঠোরতা ও নির্লজ্জতা হতে নিজেকে বাঁচাও। কারণ যাতে নম্রতা ও কোমলতা থাকে তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয়। আর যাতে কোমলতা থাকে না, তা দোষণীয় হয়ে পড়ে।

(মুসলিম, মিশকাত হা/৫০৬৮)।

***জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

জারীর (রাঃ) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,

عن جرير عن النبى صلى اللٰه عليه وسلم قال: من يحرم الرفق يحرم الخير.

যাকে কোমলতা ও নম্রতা হতে বঞ্চিত করা হয়, তাকে যাবতীয় কল্যাণ হতে বঞ্চিত করা হয়’

(মুসলিম, মিশকাত হা/৫০৬৯)।

***ইমরান ইবনু হুছায়েন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

عن عمران بن حصين قال قال النبى صلى اللٰه عليه وسلم الحياء لا يأتى إلا بخير وفي رواية : الحياء خير كله.

লজ্জা কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসে না। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে,

লজ্জার সবকিছুই কল্যাণ।

(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫০৭১)।

***নাওয়াস ইবনু সাম‘আন আল-আনছারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নেকী ও পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন,

عن النواس بن سمعان الأنصارى قال سألت رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم عن البر والإثم فقال البر حسن الخلق والإثم ما حاك فى صدرك وكرهت أن يطلع عليه الناس.

নেকী হল উত্তম চরিত্র আর পাপ হল যে কাজ তোমার অন্তরে সংশয় সৃষ্টি করে এবং ঐ কাজটি তুমি জনসমাজে প্রকাশ হওয়া অপসন্দ কর’

(মুসলিম, মিশকাত হা/৫০৭৩)।

***আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

عن أبى هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم: المؤمن غر كريم والفاجر خب لئيم.

ঈমানদার মানুষ সরল ও ভদ্র হয়। পক্ষান্তরে পাপী মানুষ ধূর্ত ও হীন চরিত্রের হয়।

(তিরমিযী হা/১৯৬৪; মিশকাত হা/৫০৮৫)।

***হারেছ ইবনু ওয়াহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

عن حارثة ابن وهب قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم لا يدخل الجنة الجواظ ولا الجعظري.

কঠোর ও রুক্ষ্ম স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

(আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৫০৮০, সনদ ছহীহ)।

***মুযাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিতঃ

একদা ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! সর্বোত্তম কোন্ জিনিসটি, যা মানব জাতিকে দেওয়া হয়েছে?

তিনি বললেন,

عن رجل من مزينة قال: قالوا: يا رسول الله ما خير ما أعطي الإنسان؟ قال: الخلق الحسن.

উত্তম চরিত্র ।

(বায়হাক্বী, মিশকাত হা/৫০৭৮)।

***আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

عن أبى هريرة قال قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم: الحياء من الإيمان والإيمان فى الجنة والبذاء من الجفاء والجفاء فى النار.

লজ্জা ঈমানের অংশ, আর ঈমানের ফলাফল জান্নাত। পক্ষান্তরে নির্লজ্জতা দুশ্চরিত্রের অংশ, আর দুশ্চরিত্রতার পরিণতি জাহান্নাম।

(তিরমিযী, মিশকাত হা/৫০৭৭, সনদ ছহীহ)।

***আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

عن عائشة رضي الله عنها قالت قال النبي صلى اللٰه عليه وسلم: من أعطي حظه من الرفق أعطي حظه من خير الدنيا والآخرة ومن حرم حظه من الرفق حرم حظه من خير الدنيا والآخرة.

যাকে নম্রতার কিছু অংশ প্রদান করা হয়েছে তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের বিরাট কল্যাণের অংশ দেওয়া হয়েছে। আর যাকে সেই কোমলতা হতে বঞ্চিত করা হয়েছে তাকে উক্ত ইহকাল ও পরকালের বিরাট কল্যাণ হতে বঞ্চিত করা হয়েছে।

(শরহু সুন্নাহ, মিশকাত হা/৫০৭৬)।

***আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

عن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى اللٰه عليه وسلم: الا أخبركم بمن يحرم على النار وبمن تحرم النار عليه على كل هين لين قريب سهل.

আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকের সংবাদ দিব না? যার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায়; আর আগুনও তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার মেজায নরম, স্বভাব কোমল, মানুষের নিকটতম (মিশুক) এবং আচরণ সরল সহজ।

(আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫০৮৪)।

 

About Admin Md. Lokman Hossen

আমার এ প্রেম নয় তো ভীরু, নয় তো হীনবল - শুধু কি এ ব্যাকুল হয়ে ফেলবে অশ্রুজল। মন্দমধুর সুখে শোভায় প্রেম কে কেন ঘুমে ডোবায়। তোমার সাথে জাগতে সে চায় আনন্দে পাগল।

Check Also

পবিত্র-রমজান-ও-সিয়াম-বিষ

পবিত্র রমজান ও সিয়াম বিষয়ক কিছু নির্বাচিত হাদীস।

মহান আল্লাহ বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *