Home / গল্প / ইচ্ছেকে কিন্তু আমি এতো তারাতারি পৃথিবীতে আনতে চাইনি ।

ইচ্ছেকে কিন্তু আমি এতো তারাতারি পৃথিবীতে আনতে চাইনি ।

স্বামী স্ত্রীর ভালবাসার গল্প

ইচ্ছেকে কিন্তু আমি এতো তারাতারি পৃথিবীতে আনতে চাইনি। তোমার বাবা-মায়ের চাপে পড়ে আজ আমাকে এই দিন দেখতে হচ্ছে।যেখানে নিজেদের মধ্যে বনিবনা নেই,সেখানে আরেকটা জীবন এনে তাকে কষ্ট দেয়ার অধিকার আমাদের নেই।

ইফতি প্রচন্ড রাগি চোখে তাকিয়ে আমাকে চর মারতে নিয়েও থেমে গেলো।

ব্যাগে জামা-কাপড় গোছাতে গোছাতে বললাম,ইচ্ছে কে আমি আমার কাছে রাখবো।আমি আমার মেয়েকে সৎ মায়ের সংসারে থাকতে দেবো না।

ইফতি দেয়ালের দিকে মুখ করে বলল,ইচ্ছে তোমার একার মেয়ে নয়। তুমি চাকরি করে নিজেকে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছো।আমি আমার মেয়ের দায়িত্ব কিছুতেই তোমাকে দিতে পারি না।

আমি চোখ মুছে বললাম,কি চাও তুমি!

ইচ্ছের জন্য আমি নতুন মা আনবো।যে তার সবটুকু সময় ইচ্ছেকে দেবে।বাইরের জগৎ সামলানো তোমার কাজ নয়।তোমার কাজ ইচ্ছেকে দেখাশোনা করা।

আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম,এরকম আমিটাকে দেখেই কিন্তু একদিন তুমি বলেছিলে কি করে এতো সুন্দর করে ঘরে বাইরে সামলাও ! আমাকে পুরোপুরি জেনেই তুমি ভালোবেসেছিলে।এখন কেনো সমস্যা হচ্ছে!!

ইফতি দেয়াল চাপড়ে বলল,ইচ্ছেকে রেখে যেখানে খুশি চলে যাও আমার কোনো সমস্যা নেই।

আমি খেয়াল করলাম ইচ্ছেকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।হঠাৎ টেবিলের নিচে চোখ যেতেই দেখলাম ইচ্ছে টেবিলের তলায় শক্ত হয়ে লুকিয়ে আছে।

ইচ্ছে এখান থেকে কোথাও যাবে না।আমাকেও যেতে দেবে না।ইচ্ছে অনবরত কেঁদে চলেছে।কিছুতেই কান্না থামছে না।ইচ্ছের বায়না ওকে নিয়ে আমাদের দুজনকে ঘুরতে যেতে হবে।

কান্না থামাতে না পেরে ইফতি বলল,আজকের দিনটা তোমাকে দিলাম শুধু ইচ্ছের জন্য।

ইচ্ছেকে নিয়ে আমরা দুজন বের হলাম।ইচ্ছে সব পুরনো জায়গা গুলোতে যাওয়ার বায়না ধরলো।যেই জায়গা গুলোতে আমরা বিয়ের আগেও ঘুরতে যেতাম। ইচ্ছে হওয়ার পরেও ওকে নিয়ে অনেকবার সেসব জায়গায় এসেছি।

ইচ্ছের মুখে হাসির ঝলক দেখে আমি সব কষ্ট ভুলে যাচ্ছি।আজকের পরে হয়তো ইচ্ছেকে আর আমার কাছে আসতে দেবে না ইফতি।

হঠাৎ ইফতি উদাসীন ভাব নিয়ে বলল,এখানে কত বার এসেছি তাই না! তোমার মনে আছে আমি একদিন খুব দেরি করে এসেছিলাম বলে তুমি আমাকে কান ধরে উঠবস করিয়েছিলে।তারপর থেকে আমার আর কখনও দেরি হয় নি।

আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম,হ্যা শুধু এখন সবটা বুঝতে একটু দেরি করে ফেলছো যার জন্য হয়তো একদিন….
তুমি হয়তো ভালো থাকবে নতুন কাউকে নিয়ে।আমিও হয়তো আমার কাজ,অফিস নিয়ে দিন কাটিয়ে দেবো কিন্তু ইচ্ছে!! ইচ্ছে কি ভালো থাকবে আমাদের আলাদা দেখে?

ইফতি আমার হাত দুটো ধরে বলল,তুমি চাকরিটা ছেড়ে দাও আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

আমি ইফতির হাত সরিয়ে দিয়ে বললাম,আচ্ছা তাও মানলাম চাকরি বাদ দিয়ে সংসার করতে থাকলাম।এক পর্যায়ে গিয়ে কোনো কারনে আমার তোমার ফ্যামিলির সাথে বনিবনা হচ্ছে না কিংবা তোমার সাথেও বনিবনা হচ্ছে না।ধরো শেষমেষ ডিভোর্স ও হলো আমি কোথায় যাবো!!
বাবার বাড়ি আই মিন বাবার ভরসায় গিয়ে দাঁড়াবো।তখন কি হবে!
তখন আমার জব হবে!! আজকাল জব পাওয়া কি মনে করো তুমি হাতের মোয়ার মতো!বুড়ো বয়সে না আমি তাদের দেখবো না আমি নিজের দায়িত্ব নেবো!

শেষে রেজাল্ট কি দাঁড়ালো!
আমি একদম নিঃশ্ব হয়ে হাতে পায়ে সবার গলার কাটা হয়ে আটকে রইলাম।আর ডিভোর্সি মেয়েদের জীবনী না হয় নাই বা বললাম।তাদের চেয়ে করুন অবস্থায় বোধহয় আর কেউ নেই দুনিয়ায়।

তুমি জানো আমি একজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট মেয়ে।কারো উপর নির্ভর হয়ে চলা আমি পছন্দ করি না।বিয়ের আগেও আমি তোমায় বারবার বলেছি আমার চাকরি নিয়ে কখনও তুমি বাঁধা দেবে না।তাহজে আজ কেনো!

ইফতি আর একটা কথারও উত্তর দিতে পারলো না।বাসায় গিয়ে ইফতি পুরো চুপ হয়ে গেলো।কিসব জেনো ভাবছে একা বসে।

আমি ব্যাগ গোছাচ্ছি এমন সময় ইফতি এসে বলল,কাল অফিস যেতে হবে না! খেয়ে ঘুমিয়ে পরো।

আমি অবাক হয়ে ইফতির দিকে তাকিয়ে বললাম,ইচ্ছে!

ইফতি একটা হাসি দিয়ে বলল,ইচ্ছেকে আমি খাইয়ে ঘুম পারিয়ে দিয়েছি।

ইফতি ব্যাগ থেকে সব জামা-কপড় আলমারিতে তুলে রাখলো।

আমি একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ভাবলাম,প্রত্যেকটা বর যদি তার স্ত্রীর হাতে হাত রেখে বলে…Do it I am always with you. আর কি চাই!

About Admin Md. Lokman Hossen

আমার এ প্রেম নয় তো ভীরু, নয় তো হীনবল - শুধু কি এ ব্যাকুল হয়ে ফেলবে অশ্রুজল। মন্দমধুর সুখে শোভায় প্রেম কে কেন ঘুমে ডোবায়। তোমার সাথে জাগতে সে চায় আনন্দে পাগল।

Check Also

বাবু তোমার একটা লুঙ্গী পরা পিক দিবা? [বেস্ট রোমান্টিক রম্য গল্প -২০১৯ ]

বাবু তোমার একটা লুঙ্গী পরা পিক দিবা? [বেস্ট রোমান্টিক রম্য গল্প -২০১৯ ]

মাঝরাতে গার্লফ্রেন্ড ফোন দিয়ে বলল ‘বাবু তোমার একটা লুঙ্গী পরা পিক দিবা?’ গার্লফ্রেন্ডের মুখ থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *